
মোল্লা ইকবাল হুসাইন,দিঘলিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি :
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় জনতার মুখোমুখি হয়ে শিক্ষা খাতের উন্নয়ন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও নদীভাঙন রোধে ব্যাপক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন খুলনা-৪ আসনের প্রার্থী আজিজুল বারি হেলাল।
শনিবার বিকেলে দিঘলিয়ার পথের বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নানা প্রশ্নের জবাবে এসব প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে তিনি দিঘলিয়ার সার্বিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় বক্তৃতাকালে আজিজুল বারি হেলাল বলেন, দিঘলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রশস্ত করে দুই লেনে উন্নীত করা হবে এবং সেগুলোকে জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে।
শিক্ষা খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এলাকার স্কুল-কলেজগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার মান বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দিঘলিয়া ও তেরখাদার অন্তত দুটি কলেজ সরকারি করা হবে। এছাড়া কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের নামে প্রতিষ্ঠিত গণগ্রন্থাগারটি আধুনিকায়নের পাশাপাশি নতুন আরও কয়েকটি গ্রন্থাগার স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন এই প্রার্থী।
ভৈরব নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি সেখানে আরও একটি নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এতে দিঘলিয়ার সঙ্গে আশপাশের উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
নদীভাঙন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নদীভাঙন রোধে পাথরের ব্লক বসিয়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হবে এবং নদীতীরকে মেরিন ড্রাইভের আদলে আধুনিক পর্যটন এলাকায় রূপান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে।
খেলাধুলা বিষয়ে তিনি বলেন, দিঘলিয়ার মিনি স্টেডিয়ামকে পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক স্টেডিয়ামে রূপান্তর করা হবে, যাতে স্থানীয় যুবসমাজ ক্রীড়াচর্চার সুযোগ পায়।
আজিজুল বারি হেলাল বলেন,
“দিঘলিয়াকে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। আমি নির্বাচিত হলে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করব।”
সভায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন এবং দ্রুত সড়ক উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আধুনিকীকরণ ও নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, যুবসমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
